বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ২১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। খবর এফটি।
মার্চের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ তথ্য সামনে এল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের ৭ দশমিক ১ শতাংশের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময় আমদানিও বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত ডিসেম্বরের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রফতানি ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছে ১১ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক এড়াতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাধ্যমে চীনা পণ্য পরোক্ষভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে।
আইটি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ফলে সেমিকন্ডাক্টর ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে, যা চীনের রফতানি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আইএনজির প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেন, আমদানির এ উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে চীন কেবল রফতানি নয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে।
তবে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়ে চীনের বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ চীনের খুব সস্তা পণ্য বিপুল পরিমাণে বাজারে ঢুকলে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ টিং লু মনে করেন, এর মূল কারণ হলো চীনের আবাসন খাতের মন্দা ও দেশের ভেতরে চাহিদা দুর্বল থাকা। ফলে দেশের ভেতরে পণ্য বিক্রি কম হওয়ায় চীনা কোম্পানিগুলো বেশি করে বিদেশে পণ্য রফতানি করছে।